আধারের ফুল


বার বার এত রকম ইনজেকশন গুলো গায়ে ফোটানোতে খুব কষ্ট হচ্ছিল সুমনের।তবুও খুব কষ্ট করে ওকে চোখ খুলতে হলো। চারদিন ধরে ওকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এই চারদিনে ওকে একদম নড়তে দেওয়া হচ্ছে না। নড়লেই পেট থেকে পানি বের হচ্ছে। ঘন্টা খানেক পর পর ডাক্তার আসছে। পেটের কাছটায় স্টেথো দিয়ে বার বার বাচ্চার পজিশন চেক করছে আর কলম দিয়ে মার্ক করছে।

প্রথম প্রথম এগুলো দেখে আশার একটা আলো জ্বলছিল সুমনের মনে , কিন্তু সময়ের সাথে সাথে সেটাও স্তিমিত হয়ে আসছে। সুমনকে বাদিকে কাত হয়ে শুয়ে থাকতে বলা হয়েছে। রুমের বাদিকটা জুড়ে পুরোটাই সাদা টাইলসের দেওয়াল।সেদিকে তাকিয়ে নিজেই নিজেকে শক্ত করার চেষ্টা করছে সুমন, পারছেনা। পাশে বসা উদ্বিগ্ন চেহারাটা দেখে আরও মন খারাপ হচ্ছে ওর। সামনে বসা মানুষটার চশমাটা খুলে দিতে ইচ্ছে হচ্ছে খুব, কিন্তু পারছেনা। উঠলেই গল গল করে পানি বের হয়।একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে চুপ করে শুয়ে রইল সুমন।

শুক্রবার সন্ধ্যায় এই হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে ওকে। আজ মঙ্গলবার,এই চারদিনে একবারও বাসায় যায়নি শ্রাবন।চোখের নিচটা কালচে হয়ে গেছে। ওর সুন্দর লম্বা চুলগুলোর খুব বিধস্ত অবস্থা। সুমনের খুব কষ্ট হচ্ছে। কিন্তু ও তো শুনছেই না সুমনের কথা। মা, তমাল সবাই থাকলেও হবেনা।তার এক কথা বাচ্চা তোমার একার না সুমো। মেয়ে আমারও। হ্যা মেয়ে শ্রাবণেরও। অনেক তর্ক হতো ওদের প্রেগনেন্সির প্রথম দিকে। শ্রাবণের মেয়ে চাই আর সুমনের ছেলে। শেষ পর্যন্ত শ্রাবনই জিতল। বেবিটা মেয়েই ওদের। কিন্তু মেয়েকে শেষ অব্দি বুকে জড়িয়ে ধরা হবে কিনা জানেনা ওরা। এখানে না ঠিক মত খেতে পারছে শ্রাবণ, না ঘুমাতে।অতিরিক্ত লম্বা বলে হাসপাতালের সোফায় পা ঝুলিয়ে ঝুলিয়ে ঘুমাচ্ছে।তবুও এখানে একভাবে থাকতে হবে ওকে।

জেদী মানুষ নিয়ে এই এক জ্বালা।আর সুমনের জ্বালা আরও বেশী।বড্ড ভালোবাসে যে ওকে শ্রাবন। অথচ এই লোকটাকে দেখলে এক সময় গায়ে জ্বর এসে যেত ওর। কি ভয় যে পেত। “আপনার ওষুধটা।” নার্সটা এসে হাতে দুই রংয়ের দুটি ওষুধ ধরিয়ে দিল। উঠে বসতে বেশ কষ্ট হচ্ছে তবু কিছু করার নেই। সুমন উঠে বসতেই মাথাটা একটু ঘুরে উঠলো। খুব দুর্বল হয়ে গেছে ও এই কদিনেই। হঠাৎ করেই পাঁচ ছদিন আগের টেস্টটাতে ধরা পড়েছে রোগটা। তার পর পরই এই ঘটনা ঘটেছে। সব মিলিয়ে একেবারে যা তা অবস্থা। “আপনার কি কোনো জ্ঞান বুদ্ধি নেই?”গম্ভীর গলার ধমক শুনে অল্পবয়সী নার্সটা একটু হকচকিয়ে গেল। “ওনার কোনো দোষ নেই, আমিই উঠেছি।” সুমন আগ বাড়িয়ে বলে উঠলো। রেগে গেলে লোকটা অবুঝের মতো আচরন করে।

“এভাবে উঠতে দেবে কেনো?গ্লুকোজ লেভেল এমনিতেই আপ ডাউন হচ্ছে, হঠাৎ করে পড়ে গেলে কি হবে চিন্তা করেছেন?” কথাটা নার্সকে বললেও রাগটা আসলে যে সুমনের উপর করা হচ্ছে বেশ বুঝতে পারছে ও। সুমন আর কথা না বাড়িয়ে নিঃশব্দে ওষুধ দুটি খেয়ে নিল। শ্রাবনের অবস্থা ও খুব ভালোভাবে উপলব্ধি করতে পারছে, টেনশন আর কান্নায় চোখদুটি লাল হয়ে আছে বেচারার। সুমন চোখের ইশারার নার্সটাকে চলে যেতে বলল। “তুমি নাস্তা করছ?” ইচ্ছে করেই জিজ্ঞেস করল সুমন। জানে করেনি। শ্রাবণ সকালে ঈদের নামাজ পড়ে আসার পর আর একবারও রুমের বাইরে বের হয়নি। সুমন ওর চোখমুখ দেখেই বুঝেছে যে, নামাজ পড়তে যেয়ে অনেক কেঁদেছে শ্রাবণ আজ। তবু জিজ্ঞেস করল। ” হমমম ” “কি খেলে?”

“খেয়েছি… এত প্রশ্ন কর কেন?” শ্রাবণ বিরক্ত মুখে বলে উঠলো। সুমন ইচ্ছে করে খোঁচাচ্ছে ওকে জানে ও। আচ্ছা এত টেনশনে কি খাওয়া যায়? সুমন ক্লান্ত গলায় বলে উঠলো “আমার দরকার তাই।” ” না, এসব এখন তোমার জানার কোনো দরকার নাই। তুমি বাম কাত হয়ে শুয়ে পর।” ” না আগে বল… কি খেলে? আমরা না থাকলে তুমি একা একা মজার কতকিছু খাবা। সেটা একটু শুনি।” সুমনের কথায় এবার কপাল কুঁচকে তাকাল শ্রাবণ। সুমন জানে এইবার শ্রাবণ আর চুপ থাকতে পারবে না।রেগে যাবে। ও খুব গম্ভীর আর রাগী। কিন্তু সুমনের সামনে ওর কোনোটাই বেশীক্ষন স্থায়ী হয় না। কথাটা সত্যি করতেই বোধহয় সুমনকে অবাক করে দিয়ে, ওকে খুব শক্ত করে জড়িয়ে ধরল শ্রাবণ। “সুমো আমি বুঝতে পারছি, কিন্তু আমার গলা দিয়ে কিছু নামছে না।” শ্রাবণের স্বরটা ভেজা।

“কিন্তু কিছু না খেলে তুমি নিজেই তো সুস্থ থাকবে না। দেখো ডাক্তার তো আমাদের না করে দেয়নি এখনো। তুমি এত ভেঙে পরছ কেনো?” সুমনের এক হাতে স্যালাইন চলছে, তবু কষ্ট করে ওর চোখের পানি মুছিয়ে দিল। সুমনের হেলথ কন্ডিশন আসলে বেশ খারাপ। হঠাৎ করে প্রেগনেন্সি ডায়বেটিস দেখা দিয়েছে ওর। বাচ্চা এখনও সাতমাস পুরো কমপ্লিট করেনি, অথচ স্যাক থেকে পানি লিক হচ্ছে। আজকে দিয়ে চারদিন তবুও পানি বের হচ্ছে, ডাক্তাররা বলছে ছিদ্রটা বন্ধ হলে একটা চান্স ছিল, টেনেটুনে চৌত্রিশ সপ্তাহ পর্যন্ত টানতে পারলে ওনারা সিজার করে ফেলতেন। কিন্তু ডায়বেটিস অনিয়ন্ত্রিত, সাথে বাচ্চা প্রিম্যাচিউর। ডায়বেটিস নিয়ন্ত্রণে না আনার আগে কিছুই করা যাবে না। সাথে ইউটেরাসের মুখ খুলে গেছে। বাচ্চটা ডেলিভারি হয়ে যাবে যে কোন সময়। কিন্তু বাচ্চাটা বাঁচবে কিনা বলতে পারছেনা কেউই।

সুমন সুস্থ ভাবে কিছু ভাবতে পারছে না। মনটা কেমন ভোঁতা অনুভূতি শূন্য হয়ে গেছে ওর। কত কথা মনে পড়ে যাচ্ছে। প্রথম টেস্ট থেকে শুরু করে প্রত্যেকটা আলট্রাসাউন্ড রিপোর্টগুলি এখনো ওর আলমারিতে সযত্নে রাখা রয়েছে। মনে পড়ছে একটু একটু করে বেড়ে ওঠা ওদের মেয়েটা এক সময় নিজের অস্তিত্বের জানান দিতে একটু করে নড়ে উঠতো। কি অদ্ভুত ছিল সেই অনুভূতিটা। নিজের ভিতরে অন্য একটা প্রান। মাতৃত্বের এই অভিজ্ঞতা যে কত বিচিত্র, নিজে মা হবার আগে তার কোনো ধারনাই ওর ছিলনা। সারাদিন ছটফট করে নেচে বেড়ানো মেয়েটা একদম শান্ত হয়ে গিয়েছে এখন। দুজনেই ওরা কত অধীর আগ্রহে নিজেদের সন্তানকে বুকের ভিতরে জড়িয়ে ধরার স্বপ্ন দেখত। কত রাত ওরা ওর গল্প করে কাটিয়েছে।

আজ কি সেই স্বপ্নটা ভেঙে চূড়ে একাকার হয়ে যাবে? ভাবতেই ভয়ে দম বন্ধ হয়ে আসছে ওর। ওকে যদি নিঃস্ব হাতে ফিরতে হয়, তাহলে এরপর ওরা কি নিয়ে গল্প করবে? বুকের ভিতরে কি অসহ্য রকম যন্ত্রনা হচ্ছে থেকে থেকে।
সুমনের দুই পায়ের ফাঁকে মোটা সাদা টাওয়েল, পানিতে সম্পূর্ণ ভিজে যাচ্ছে। পানির সাথে মাঝে মাঝে ছোট ছোট চুলও আসছে। আর শ্রাবণ খানিক পর পর সেটা পাল্টাচ্ছে আর নিঃশব্দে কাঁদছে। ওর কান্না দেখে আসলে সুমনের কান্না থমকে গেছে। সুমন নিঃশব্দে আল্লাহর কাছে খুব প্রার্থনা করছে… যেন উনি ওদের বাচ্চাটাকে বাঁচিয়ে রাখে।এর চেয়ে বেশী ওর আর কিছু চাওয়ার নেই। কিন্তু কিভাবে সেটা সম্ভব জানে না ও। শ্রাবণের কষ্ট ওর সহ্য করতে খুব কষ্ট হচ্ছে। শ্রাবণ নিজে একজন ডাক্তার।

ডাক্তার হয়ে নিজের সন্তানের জন্য কিছু করতে না পারা কি কষ্টের ওকে দেখে আরও বেশি করে অনুভব করতে পারছে সুমন।কিন্তু ওর হাতে তো কিছু নেই। কিছুক্ষণ পর নীরা আসলেন, তমালকে সাথে নিয়ে। সাথে ওদের জন্য খাবার। আসলে আজ ঈদ। সব ঘরে ঘরে আনন্দের বন্যা বয়ে যাচ্ছে। আর ওদের বাড়িতে কান্নার ধুম পড়ে গেছে। সুমন হসপিটালের বেডে শুয়েও সেটা বেশ বুঝতে পারছে। নীরার চোখ মুখ ফুলে আছে।মা বোধহয় খুব কেঁদেছেন একটু আগে। তমাল ওর চাচাত দেবর। ওর মুখটাও অন্ধকার। অথচ তমাল হচ্ছে ওদের বাসার সবচেয়ে হাসিখুশি মানুষ। খুব কঠিন পরিস্থিতিতেও ওকে হাসতে দেখা যায়। নীরা বসে সুমনের চুলটা খুলে আচড়ে দুই পাশে দুটো বেনি করে দিলেন। সুমন আসলে মা বলতে অন্য কাউকে চেনে না। এতিম সুমন শ্রাবণের বাবা- মায়ের কাছেই মানুষ হয়েছে ছোটোবেলা থেকে। ওর দূর সম্পর্কের আত্মীয় হন ওনারা। নিজের মেয়ের আদরেই ওকে মানুষ করেছেন আসফাক চৌধুরী।কোনো ত্রুটি রাখেননি।

সুমন খুব সংসারী একটা মেয়ে। ওর বিয়ের জন্য পরিচিতদের মধ্যে থেকে বেশ কিছু ভালো সমন্ধ এসেছিল। সেখান থেকে বিয়ের জন্য পাত্র খোঁজা শুরু করতেই, হঠাৎ থলের বিড়াল বের হয়ে আসল। নিজেদের একমাত্র ছেলে মিনমিনে গলায় বলে বসল, সুমনকে ভালোবাসে সে। সুমনকে ছেলের বউ হিসেবে অপছন্দ তাদের কোনো কালেই ছিল না। কিন্তু ছেলের উপর নিজেদের পছন্দ চাপিয়ে দেওয়ার কোনো ইচ্ছা আসফাক বা নীরা কারুরই ছিল না। কিন্তু শ্রাবণ নিজে থেকে বলাতে বিষয়টা ওনারা সাদরে মেনে নিয়েছিলেন। সুমনও কোনো আপত্তি করেনি। আর আপত্তির বিশেষ কোনো কারনও ছিল না। একেতো আসফাক বা নীরাকে ছেড়ে যেতে হবে না এটা সুমনের জন্য অনেক বড় কিছু। এছাড়া শ্রাবণকে ছোটবেলা থেকেই মনে মনে পছন্দ করে ও। কিন্তু ওটুকুই। এর চেয়ে বেশি সাহস ওর ছিল না।

কিন্তু শ্রাবণও ওকে পছন্দ করে এটা বিয়ের এক সপ্তাহ আগেও জানত না ও। খুব ধুমধাম করে বিয়ে হয়েছিল ওদের।
এমন একটা পরিবারের নতুন সদস্যের জন্য কতটা উন্মুখ হয়ে থাকে সবাই, সেটা খুব ভালো করে জানে সুমন। কান্না চেপে দেয়ালের দিকে মুখ করে শুয়ে রইল ও। নীরা তখনও ওর মাথায় হাত বুলিয়ে দিচ্ছেন টের পাচ্ছে ও। সন্ধ্যার পরে প্রচন্ড ব্যাথা শুরু হয়ে গেল সুমনের। শ্রাবণ কি করবে বুঝতে পারছেনা। মেয়েটার শরীর ব্যাথায় কুকড়ে যাচ্ছে। যত সময় যাচ্ছে গোঙানির শব্দে অস্থির হয়ে যাচ্ছে ও। এই ব্যথায় ভাগ বসানোর সামর্থ্য তো ওর নেই। বুকের মধ্যে সুমনকে জড়িয়ে ধরে শুয়ে রইল শ্রাবণ। কিন্তু কিছুতেই সুমনের স্বস্তি হচ্ছে না।সমানে ছটফট করেই যাচ্ছে।ঘন্টাখানেক পর পর ডিউটতে থাকা নার্স এসে দেখে যাচ্ছে ওকে।

রাত দুইটায় সুমনের ব্যাথা তীব্র আকার ধারন করল। সুমনের হুঁশ জ্ঞান তখন নেই বললেই চলে। হাতের কাছে যা পাচ্ছে তাই সমানে টেনে হিচড়ে একাকার করে দিচ্ছে। শ্রাবণের চুলগুলি তার প্রথম শিকার। তারপরও দুহাতে ওকে বুকে চেপে রাখল শ্রাবণ। কতটা যন্ত্রনা না হলে সুমন এমন করতে পারে, বুঝতে পারছে ও। ওর চুলগুলো সুমনের খুব পছন্দের। এখন দিক বিদিক শূন্য হয়ে সেগুলোকেই মুঠিতে চেপে ছিড়ে ফেলতে চাইছে বউটা। লম্বা একটা দীর্ঘশ্বাস বের হয়ে আসল ওর বুকের অন্তস্তল থেকে।

মোল্লার দৌড় মসজিদ পর্যন্ত। সুমনের সব অভিমান ওকে বুকের মধ্যে চেপে ধরলেই নিমেষে হাওয়া যায়। কিন্তু আজ কোনো ভাবেই শান্ত হচ্ছে না বউটা। একভাবে বলেই যাচ্ছ, ” ওকে বলোনা আমায় ছেড়ে দিতে, আমি আর পারছিনা। ওকে বলো তাড়াতাড়ি আসতে।” ভোর তিনটা পর্যন্ত চলল সেই তান্ডব। ভোর চারটায় সকল দুঃখের অবসান ঘটিয়ে পৃথিবীর নতুন আলোর মুখ দেখল ওদের মেয়েটা। যদিও দ্রুতই ওকে ইনকিউবেটরে ট্রান্সফার করা হলো। সুমনের শরীরটা তখন আর চলছিলনা।যুদ্ধশেষে ঘরে ফেরা সৈনিকের মতোই ক্লান্ত ও তখন। “ও বেঁচে আছে তো? “সুমন, শ্রাবণকে কেবল এটুকু বলেই গভীর ঘুমে তলিয়ে গেল। শ্রাবণ তখন এক মিশ্র অনুভূতি নিয়ে দাড়িয়ে আছে।আনন্দ আর ভয় দুটোই ওকে ঘিরে ধরেছে যুগপৎ ভাবে। বাচ্চাটা শেষ পর্যন্ত বাঁচবে কি না ও জানে না। তারপরও নিজের সন্তানকে চোখের সামনে দেখার পর থেকে কেমন এক অদ্ভুত অনুভূতি হচ্ছে ওর, কাউকে বলে বোঝাতে পারবেনা। এতক্ষণে যেন ঈদ ঈদ মনে হচ্ছে ওর।

দুইদিন পর শিশু বিশেষজ্ঞ শাহানা আফরোজ যখন ওদের মেয়ে সুহাকে সুমনের হাতে তুলে দিলেন, তখন শ্রাবণ আর সুমন দুজনেই ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে কাঁদতে লাগল। মেয়েটা কেমন তুলেতুলে বিড়ালের বাচ্চার মতো ঘুমিয়ে আছে। অত্তটুকু একটা ছোট্ট শরীরে কত রকম স্বপ্ন সাজিয়ে নিয়ে এসেছে ও পুরো পরিবারটার জন্য। ওদের কাঁদতে দেখে পরিবারের অন্যরা যখন বলতে লাগল,” আরে এখন তো আর ভয় নেই। তোরা কাঁদছিস কেন পাগলের মতো?” তখন তমাল বলে উঠল, ” আরে এটা তো দুঃখের নয়, সুখের কান্না। হারিয়ে যাওয়া সন্তান নিজের বুকে ফিরে আসার আনন্দ কেবল তারাই জানেন যারা নিজের সন্তানকে হারিয়েছেন। “

তমালের কথায় নতুন বাবা – মা হওয়া দম্পত্তির মুখে আত্মতৃপ্তির আভাস দেখা গেল। সত্যি এখনও ওদের বিশ্বাস হচ্ছে না যে ওদের মেয়েটা ওদের কোলে। সব কিছুই বড় অবিশ্বাস্য লাগছে। হালকা গোলাপি রঙের তোয়ালে জড়ানো ছোট্ট মুখটা এখন থেকে ওদের ভালোবাসার কেন্দ্রবিন্দু, মনে হতেই আনন্দটা ক্রমশ ওদের কাছ থেকে পুরো চৌধুরী বাড়ির চৌহদ্দিতে ছড়িয়ে পড়তে লাগল। শ্রাবণের মনে হল জীবনটা অত্যন্ত আনন্দের। আর তার মূল কারন বোধহয় জীবনের এই পাওয়া না পাওয়ার হিসেবটা। হারানোর ভয়টা আছে বলেই বোধহয় ফিরে পাওয়াটা এত মধুর। শক্ত হাতে স্ত্রী আর মেয়েকে বুকে জড়িয়ে ধরল সে।
নবীনতর পূর্বতন